ষাটের দশকে চাইবাসার চালাঘরের উঠানে সমীর রায়চৌধুরী

ষাটের দশকে চাইবাসার চালাঘরের উঠানে সমীর রায়চৌধুরী

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১২

শান্তি লাহিড়ী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আমি-- আমার বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে


সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

২০.৬.১৯৭৩
৩৭/২ গড়িয়াহাট রোড
কলকাতা ৭০০ ০১৯
ভাই বেলা ও সমীর,
টেলিগ্রামটা পাবার পর খুব মন কেমন করছে। কিন্তু এক্ষুনি যেতেও পারছি না। সংসার পেতে বসলেই অনেক ঝামেলা। তোমাদের ওখানে হঠাৎ চলে যাওয়ার জন্য আমি আর স্বাতী সব ঠিকঠাক করে ফেলেছিলুম--- এমন সময় স্বাতীর জ্বর হলো। ও সেরে ওঠার পর আবার ছেলের জ্বর। দু'জনেই সেরে ওঠার পর আবার অন্য অসুবিধে। অম্বুবাচীর সময় মা প্রায় এক মাস দমদমে গিয়ে থাকেন--- পরশু চলে গেলেন। আমাদের এ-বাড়িটা এমন যে তালাবন্ধ করে সবাই মিলে চলে যাওয়া যায় না। অন্তত স্বাতী তাই মনে করে। আমি একলাই দ্বারভাঙ্গা যাবো ভেবেছিলাম--- কিন্তু স্বাতী একলা থাকতে পারে না--- ভুতের ভয় পায় ! তাহলেই বুঝে দেখো কি ব্যাপার !
          দ্বারভাঙ্গা যাবার জন্য কিছুদিন ধরেই ছটফট করছি। আগামী মাসে আর একবার উদ্যোগ নেওয়া যাবে--- দেখা যাক কি হয়।
          তোমাদের ওদিককার খবর কি ? গত সপ্তাহে শান্তি লাহিড়ীর বাড়ির কাছে এক জলসায় গিয়েছিলাম। নানারকম সব মজার ব্যাপার হয়েছিল। এখানকার অন্যান্য খবর সব চলছে একরকম। ছোটোদের সবাই ভালো আছে তো ?
                                                           ভালোবাসা জানাই
                                                                  সুনীল

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

৩২/২ যোগীপাড়া রোড
কলকাতা ২৮
১৬.৩.১৯৬৬
সমীর,
        তোর দুটো টেলিগ্রাম পেয়েছি । চিঠি পেলে ব্যস্ততার কথা জানতে পারতুম । 'ভিয়েতনামের' এক ফর্মা ছাপা হচ্ছে দু'এক দিনের মধ্যেই, বাকি এক ফর্মা খুব শিগগির তো সম্ভব নয়। কারণ বেরুতে পারে না। কৃত্তিবাসে তোর অনেকগুলো কবিতা ছাপা হয়ে গেছে--- এখন কৃত্তিবাস বেরুবার আগে--- তোর বই বার করি কি করে । বই বেরিয়ে যাবার পর--- সে বইয়েরই কবিতা কৃত্তিবাসে ছাপা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু--- সুতরাং কৃত্তিবাস বেরুবার কয়েকদিন পর তোর বই বেরুনো উচিত।
        কৃত্তিবাসের কাজও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে --- এবার কৃত্তিবাস ৭ ফর্মার মতন হচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি বিজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছি --- বেরুতে বেরুতে এ মাসের শেষ--- বা আগামী মাসের প্রথমে--- রবীন্দ্র জন্মদিবসের হৈ-হল্লার সময়ে।
        তোর বই মে-মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ আন্দাজ বেরুতে পারে।
                                                 ভালোবাসা নিস
                                                       সুনীল

শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রবাল দাশগুপ্ত

সেন্টার ফর এ এল টি এস
ইউনিভারসিটি অফ হায়দ্রাবাদ
হায়দ্রাবাদ ৫০০ ১৩৪
৩১.৭.১৯৯৩
সমীরবাবু,
        ধরে নিচ্ছি শেষ পর্যন্ত 'অধুনান্তিক এলাকা' পেয়েছেন। ছাপার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেল নিশ্চই। কবে নাগাদ বেরোবে জানতে পারলে ঠিক করতে পারব, আমার যে দু'য়েকজন বন্ধু লেখাটা এখন পড়তে চাইছে তাদের পাণ্ডুলিপির জেরক্স পাঠাবার দরকার আছে কিনা।
        একজন বন্ধু বলছে যে একটি গ্রন্হমালায় 'সাজানো বাগানের পরের স্টপ' আর 'অধুনান্তিক এলাকা' পুনর্মুদ্রণ করতে চায়। আপনারা কি এ-প্রস্তাবে রাজি ? আপনাদের অনুমতি না পেলে স্পষ্টতই আমি কিছু বলতে পারি না। পত্রিকায় মুদ্রিত লেখায় সম্পাদকের আর লেখকের যৌথ স্বত্ত্ব থাকে।
        প্রীতি ও শ্রদ্ধা জানবেন। আশা করি ভাল আছেন।
                                                    ইতি
                                             প্রবাল দাশগুপ্ত

মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়

কেতকী
পো: মণিহারা
পুরুলিয়া
৪.১০.১৯৯৬
শ্রদ্ধেয় সমীরবাবু,
আপনার গুচ্ছ কবিতা শারদ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। কেতকী এবার কলকাতা থেকে ছাপা হচ্ছে। এখান থেকে পত্রিকা প্রকাশ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। কলকাতায় একজন কবিকে যাবতীয় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেখানেই অফিস খোলা হয়েছে। মাসে ১/২ বার আমাকে যেতে হবে। আর কি?
        কবি মলয় রায়চৌধুরীর কবিতাও আছে।
        হাওয়া কি বের হয়েছে? আমার কিছু কবিতা পাঠিয়েছিলাম। দেখবেন চলে কিনা । ছাপা হলে জানাবেন।
        টেলি-কবিতার সংকলন পেলাম কই ? পাঠাবেন। একান্ত অনুরোধ। পাঠাতে ভুলবেন না। চিঠি দেবেন। নতুন কোনো সংবাদ থাকলে জানাবেন।
                                                       নমস্কার
                                           মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়
       

শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ত্রিদিব মিত্র

শালকিয়া
হাওড়া
৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭
প্রিয় সমীরদা,
আপনার চিঠিপত্র তো একেবারেই বন্ধ। ঠিক নয়। যোগাযোগ রাখবেন। ইন্সপায়ার করবে কে ? 'উন্মার্গ' বার করছি মার্চেই। চিঠি পাওয়া মাত্র কয়েকটি কবিতা পাঠিয়ে দিন। উইদাউট ডিলে। মলয় তো এখন কলকাতায়। তবে আজই সম্ভবত পাটনা যাচ্ছে। সুভাষরা 'ক্ষুধার্ত প্রতিরোধ' বার করছে ফেব্রুয়ারির শেষাশেষি।
        কলকাতার শ্বাস এখন নিথর। চুপচাপ থেকে-থেকে শরীরমনে জং ধরে গেল।
                                                         ত্রিদিব মিত্র

সমীরণ মজুমদার

সমীরণ মজুমদার
সম্পাদক: অমৃতলোক
টি-৪ বিধাননগর
মেদিনীপুর ৭২১ ১০১
৬.৯.১৯৯৫
শ্রদ্ধাভাজনেষু দাদা,
এইমাত্র অফিসে বসে পেলাম। গতকালই কলকাতা থেকে ফিরেছি। আবার কালই লেখাটি নিয়ে ছুটতে হবে প্রেসে। আমাদের পত্রিকার কাজ শেষ পর্যায় চলছে। ফলে পৃ নং দেয়া হয়ে গেছে। তবু চেষ্টা করছি লেখাটি যতখানি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। লেখাটির জন্য কৃতজ্ঞ । অনেক বিরক্ত করেছি। ক্ষমাপ্রার্থী।
                                                            শ্রদ্ধাসহ
                                               সমীরণ মজুমদার